পিকেএসএফের মাধ্যমে ১০১ সহযোগী সংস্থার ঋণ বিতরণ; উপকারভোগীদের ৮৭ শতাংশই নারী
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘কুটির ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিশেষ তহবিল (সোপান)’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মধ্যে ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এসব উদ্যোক্তার ৮৭ শতাংশই নারী।
রোববার (৮ নভেম্বর) পিকেএসএফের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সুহাস শংকর চৌধুরীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মসূচির আওতায় পিকেএসএফ ১০১টি সহযোগী সংস্থার অনুকূলে ঋণের অর্থ ছাড় করেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রথম ধাপে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা পায় সংস্থাটি।
চার উপখাতে ঋণ বিতরণ
দেশের ৬৪ জেলায় সোপান কর্মসূচির আওতায় চারটি উপখাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। উপখাতগুলো হলো প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ম্যানুফ্যাকচারিং, সেবা এবং ভ্যালু চেইন অর্থায়ন।
এসব খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিদ্যমান ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্প্রসারণে অর্থায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রমেও দেওয়া হচ্ছে ঋণ।
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক ও অকৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্প্রসারণ এবং এসব উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ তহবিল ৫ হাজার কোটি টাকার
এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক পিকেএসএফের অনুকূলে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তিন ধাপে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে।
পুরো অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় ঋণ বিতরণ তদারকি
ঋণ বিতরণের মান বজায় রাখা ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সদস্যভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

