তিন বছর ধরে পৌর চত্বরে পড়ে এলজিইডির গাড়ি-ডাস্টবিন, হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা
দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবার অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত নেত্রকোনার মদন পৌরসভার বাসিন্দারা। প্রায় তিন বছর ধরে পৌরসভা চত্বরেই পড়ে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি প্রকল্পের আওতায় পাওয়া গাড়ি, ডাস্টবিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। অব্যবহৃত অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে, গ্যারেজ ও স্টোররুমে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এসব সামগ্রী। ফলে কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না হাওড়াঞ্চলের পৌরবাসী।
নাগরিকদের অভিযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে শুরু করে ময়লা পরিষ্কারের ফি পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নাজুক। প্রশাসক নিজেও এ অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করেছেন।
পৌরসভা হয়েছে, নাগরিক সেবা বাড়েনি
জানা গেছে, ২০০২ সালে হাওড় অধ্যুষিত নেত্রকোনার মদন দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। পৌরবাসীর সেবা বাড়ানো, পরিকল্পিত পৌরসভা গড়ে তোলা এবং টেকসই নগরায়ণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ‘নগর উন্নয়ন’ কর্মসূচির আওতায় আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডির আইইউজিআইপি প্রকল্পের অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদে বিভিন্ন প্যাকেজ নেওয়া হয়। এর প্রথম ধাপে ২০২৩ সালে প্রায় চার হাজার ডাস্টবিন, বিশেষায়িত পাঁচটি অটোরিকশা, একটি মিনি ট্রাক, একটি ভ্যাকুয়াম গাড়ি ও সাতটি ভ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হয়।
কিন্তু এসব সরঞ্জাম পৌরসভার কাজে ব্যবহারের বদলে পড়ে রয়েছে অবহেলায়। প্রায় তিন বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে, গ্যারেজ ও স্টোররুমে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৩ কোটি টাকার সরঞ্জাম এভাবে অব্যবহৃত ও বিনষ্ট হতে দেখলেও নাগরিকদের কিছু করার নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংসদ সদস্যের পরিদর্শনেও বদলায়নি পরিস্থিতি
গত ২ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে মদন পৌরসভা পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। সেখানে প্রকল্পের সরঞ্জাম অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এমন অব্যবস্থাপনা এবং কাজে না লাগিয়ে সরঞ্জাম নষ্ট হতে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন সংসদ সদস্য। তবে তার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
পরিদর্শনের পর কিছুটা তৎপর হয়ে অল্পসংখ্যক ডাস্টবিন বিতরণ করা হলেও এখনো পৌর চত্বরে বিপুল পরিমাণ ডাস্টবিন পড়ে রয়েছে। বিতরণ করা ডাস্টবিনগুলোও দায়সারাভাবে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রকল্পের কেনাকাটা নিয়ে প্রকৌশলীর বক্তব্য
মদন পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জামিল হাসান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
বরাদ্দ ও কেনাকাটার বিষয়ে তিনি বলেন, পৌরসভা থেকে এসব কেনাকাটা করা হয় না। প্রকল্পের কর্মকর্তারাই কেনাকাটা করেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা স্বীকার প্রশাসকের
মদন পৌরসভার সদ্য যোগদান করা প্রশাসক এম এ কাদের বলেন, পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ মারাত্মক অব্যবস্থাপনা দেখেছেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সার্বিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

