রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলে সরকার গঠনের লড়াই, আরব দল নিয়ে নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তা

জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে আরব দলগুলোর সমর্থনে কোনো সরকার গঠিত হলে তা ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ শনিবার দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন আইজেনকোট। এ জন্য তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। <Cite refs={[“turn150951news1″,”turn150951search10”]}/>

জাতীয় ঐক্যের সরকার চান নেতানিয়াহু

আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণার পর শনিবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানান নেতানিয়াহু।

তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলগুলো আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের যে চেষ্টা করছে, তা ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তার ভাষায়, আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার ইসরায়েলকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেবে।

এ কারণে সব ইহুদিবাদী ও জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিজের পুরোনো জোটের চরম-জাতীয়তাবাদী দল রিলিজিয়াস জায়নিজম ও ওতজমা ইহুদিত এবং কট্টরপন্থি ধর্মীয় দলগুলোকেও এমন সরকারে রাখতে চান নেতানিয়াহু।

তবে এসব দলের কট্টর অবস্থানের কারণে বিরোধী দলগুলো তাদের সঙ্গে একই সরকারে যেতে রাজি নয়।

ঐক্য সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে অবশ্য ভিডিওবার্তায় কিছু বলেননি নেতানিয়াহু।

আইজেনকোটকে আক্রমণ নেতানিয়াহুর

আইজেনকোটের নাম উল্লেখ না করে নেতানিয়াহু বলেন, একজন খুব তাড়াহুড়ো করছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি শপথ নিতে পারেন। এমন সরকার ইসরায়েলকেই মুছে দিতে চাইছে।

নেতানিয়াহুর দাবি, আরব দলগুলো ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সমর্থক। এসব দলের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠিত হলে হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কঠিন হবে। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, “এমন সরকার গঠন হলে ইসরায়েল বলে কিছু আর থাকবে না।”

ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, জাতীয় শিবিরের সব দল ও ইহুদিপন্থি দলগুলোকে নিয়ে এমন সরকার গঠন করা প্রয়োজন, যারা দেশকে রক্ষা করতে চায়। তার মতে, এ ধরনের সরকার গঠিত হলে ইহুদিরাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল সুরক্ষিত হবে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলা করা যাবে এবং সবাই একজোট হতে পারবে।

নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে ভণ্ডামি বলছে আইজেনকোটের দল

নেতানিয়াহুর ভিডিওবার্তার জবাবে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি তার বিরুদ্ধে ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছে।

দলটির বক্তব্য, লিকুদ পার্টি ও তাদের মিত্ররা হঠাৎ করে বৃহত্তর ঐক্য সরকার গঠনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সত্যিই ঐক্য সরকার চাইলে নেতানিয়াহুকে আগে চরমপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট ভাঙতে হবে।

এ ছাড়া আইজেনকোটের চারটি নীতি মেনে নেওয়া এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে বলেও দাবি করেছে দলটি।

অন্যদিকে আইজেনকোট বারবার জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনোভাবেই জোট করবেন না। নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

আইজেনকোটের চার শর্ত

সরকার গঠনের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে চারটি নীতি ঘোষণা করেছেন আইজেনকোট। এগুলো হলো—

১. হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সামরিক ঘাঁটি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ধ্বংস করা।

২. ইসরায়েলকে ইহুদিপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

৩. স্বাধীনতার ঘোষণার মূল্যবোধ গ্রহণ করা।

৪. সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় পরিষেবা চালু করা।

আইজেনকোট জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটের যেসব সদস্য এই চার নীতিতে সমর্থন দেবেন, তাদের সঙ্গেই তিনি কাজ করতে প্রস্তুত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন