বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি সচল থাকলেও কমছে না জ্বালানির দাম, বিশ্বজুড়ে তীব্র সংকট

একাধিক যুদ্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ, ট্যাঙ্কার ভাড়া ও বিমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি মজুতে টান—সব মিলিয়ে চাপে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে শুরু হলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট কাটছে না। বরং যুদ্ধের ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, নাবিকদের বাড়তি পারিশ্রমিক এবং জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় তেল ও জ্বালানির দাম উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তা, পরিবহন খাত, কৃষক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে হুথিদের আক্রমণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। বছরের এই সময়ে এমন উচ্চমূল্যের নজির আগে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসে ডিজেলের দাম যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, বর্তমান দাম তার চেয়ে মাত্র ২০ সেন্ট কম।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের একাধিক জরুরি পদক্ষেপ সত্ত্বেও জ্বালানির বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। কারণ, সরবরাহের সংকট শুধু তেল উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; উৎপাদিত তেল নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যয় ও ঝুঁকিও এখন মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি সচল, কিন্তু ঝুঁকি কাটেনি

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিতে সামান্য স্বস্তি এসেছে। তবে এই নৌপথ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। যুদ্ধের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

গবেষণা সংস্থা পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি কৌশলবিদ ইয়ান স্টুয়ার্টের মতে, যুদ্ধের কোনো স্থায়ী মীমাংসা হয়নি, শান্তিও ফিরে আসেনি। ফলে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এসব জাহাজের মধ্যে অন্তত দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছিল। এ ধরনের হামলার আশঙ্কা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি নৌপথে স্বাভাবিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

ট্যাঙ্কার ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে

জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা যাচ্ছে সুপারট্যাঙ্কারের ভাড়ায়। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ক্লার্কসন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পারস্য উপসাগর থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ট্যাঙ্কার ভাড়া করতে দৈনিক ব্যয় হতো প্রায় ৬৫ হাজার ডলার।

ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে এই ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় দৈনিক ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। বর্তমানে একই রুটে একটি ভিএলসিসি ট্যাঙ্কার ভাড়া করতে দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে ক্লার্কসন্সের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাল্ফ অয়েলের প্রধান জ্বালানি উপদেষ্টা টম ক্লোজা এই পরিস্থিতিকে চরম অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজস্ব ট্যাঙ্কার থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বর্তমান ভাড়ার বাজার বিপুল আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে যুদ্ধের কারণে সেই ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়লে সম্ভাব্য লাভ মুহূর্তেই বড় লোকসানে পরিণত হতে পারে।

নাবিকদের পারিশ্রমিক ও বিমা ব্যয়েও চাপ

ট্যাঙ্কার ভাড়ার বাইরেও জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় বাড়াচ্ছে নাবিকদের পারিশ্রমিক ও জাহাজের বিমা। সংঘাতপূর্ণ জলসীমায় জাহাজ পরিচালনা করতে নাবিকদের রাজি করানো এখন শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু শিপিং কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে একটি ট্রিপ সম্পন্ন করার জন্য নাবিকদের ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব করছে। কোনো কোনো নাবিকের ক্ষেত্রে এই অর্থ তাঁদের পুরো বছরের আয়ের চেয়েও বেশি।

একই সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকিতে জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বিমা প্রিমিয়ামও বেড়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের একটি রাউন্ডট্রিপের জন্য উৎপাদকদের এখন ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

ট্যাঙ্কারের অস্বাভাবিক ভাড়া, নাবিকদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক এবং বিমা ব্যয়ের সম্মিলিত চাপ শেষ পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহনের মোট খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে তেল আমদানিকারক, পরিবহন ব্যবসা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

ব্যারেলপ্রতি পরিবহন ব্যয় বেড়ে ৩৩ ডলার

গাল্ফ অয়েলের প্রধান জ্বালানি উপদেষ্টা টম ক্লোজার তথ্য অনুযায়ী, আগে পারস্য উপসাগর থেকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাইরে নিয়ে আসতে ব্যয় হতো প্রায় ২ ডলার। বর্তমানে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে।

তাঁর মতে, বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে—এমন তথ্য দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। কারণ, সেই তেল নিরাপদে উৎপাদনকেন্দ্র থেকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা জ্বালানির প্রকৃত মূল্যকে অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আর্থিক বাজারে তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত দাম এবং বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে তেল কিনে নেওয়ার দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাস্তবে সরবরাহযোগ্য অপরিশোধিত তেল হিসেবে পরিচিত ডেটেড ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৫ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ছিল প্রায় ১০০ ডলার। বাস্তব সরবরাহের এই উচ্চমূল্য এপ্রিলের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও পরিবহন ব্যয় দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে জ্বালানি খুচরা বাজারেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও পেট্রলপাম্পে দ্রুত স্বস্তি ফিরে আসার নিশ্চয়তা নেই।

একাধিক সংঘাত বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এখন একাধিক সংঘাতের প্রভাবে চাপে রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি, অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা—সব মিলিয়ে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার পরিশোধন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

নিজস্ব বাজারে জ্বালানির ঘাটতি সামাল দিতে রাশিয়া রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীনও। যদিও সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলো গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েল উৎপাদন বাড়িয়ে সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। তবে এসব শোধনাগারও প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করছে। বছরের এই সময়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু শোধনাগারের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে হারিকেন ইসায়াস আঘাত হানলে বা শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ, একদিকে আন্তর্জাতিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে প্রধান উৎপাদক দেশের পরিশোধন সক্ষমতায় সম্ভাব্য বিঘ্ন—দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাব বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

জ্বালানি মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বছরের শুরুতে বিভিন্ন দেশ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জ্বালানির যে মজুত গড়ে তুলেছিল, তা বর্তমান সংকটের অভিঘাত সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাণিজ্যিক ও আপৎকালীন মজুত সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ তৈরি করে। ফলে তাৎক্ষণিক সংকটের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থায় ধারাবাহিক বিঘ্নের কারণে সেই মজুতও কমে আসছে। মজুতের পরিমাণ তলানির দিকে নামলে বাজারে নতুন কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তখন উৎপাদন বা পরিবহনে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে।

ইয়ান স্টুয়ার্টের মতে, জ্বালানির মজুত এতটাই কমে এসেছে যে নতুন কোনো ধাক্কা সামলানোর মতো পর্যাপ্ত আপৎকালীন সঞ্চয় আর অবশিষ্ট নেই। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরলেও শুধু এ কারণে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

সংকট কাটাতে সংঘাত প্রশমনের বিকল্প নেই

বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদন বা সরবরাহের ঘাটতির বিষয় নয়। জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা, নৌপথের স্থিতিশীলতা, শিপিং ব্যয়, বিমা প্রিমিয়াম, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং মজুতের পরিমাণ—সবকিছু মিলিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হওয়া ইতিবাচক হলেও যুদ্ধের ঝুঁকি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তাহীনতা বজায় থাকলে পরিবহন ব্যয় দ্রুত কমার সম্ভাবনা সীমিত। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের রপ্তানি নীতির পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

টম ক্লোজার মতে, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনটি সংঘাতেরই অবসান হওয়া প্রয়োজন। অন্তত দুটি সংঘাতের তীব্রতা কমানো গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

সার্বিকভাবে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শুধু তেলের প্রবাহ পুনরুদ্ধার যথেষ্ট নয়; নিরাপদ পরিবহন, স্থিতিশীল উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুত এবং সংঘাত প্রশমনেরও প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাওয়া গেলেও তার উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও নিরাপত্তাঝুঁকির বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জ্বালানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়েই যাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন