বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়ালে ‘দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ হুঁশিয়ারি হুতিদের

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু ঘোষণার দাবি, রিয়াদে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ

ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়ালে দেশটিকে ‘দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। এদিকে, হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব বলে খবর পাওয়া গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুতি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য মোহাম্মদ আল বুখাইতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে জড়ালে পাল্টা জবাব দিতে তারা দেরি করবে না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং এ অঞ্চলে দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।

সৌদি স্থাপনা থেকে কর্মীদের দূরে থাকার সতর্কতা

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন বুখাইতি। তাঁর দাবি, এসব স্থাপনা এখন হুতিদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

হুতিদের এ ধরনের হুঁশিয়ারিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ, আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা

এর আগে সোমবার রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ আগে তাঁদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, রিয়াদে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও একটি ড্রোন পাঠানো হয়েছে। শহরটি ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

সৌদি বিমানবন্দর ব্যবহারে হুতিদের সতর্কতা

ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা এবং যাতায়াত না করার বিষয়ে আবারও সতর্ক করেছেন। তবে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরকে এ সতর্কতার বাইরে রাখা হয়েছে।

সারির ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর এখন ‘অনিরাপদ’। তবে হুতিদের এসব দাবি ও সতর্কবার্তার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগের হামলায় হতাহত, বিমানবন্দর বন্ধের দাবি

নতুন করে এসব হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন শনিবার হুতিদের হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর পর রোববার আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।

পরপর এসব হামলা ও পাল্টা হামলার হুমকিতে সৌদি আরবকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইয়েমেন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়ালে এর প্রভাব সৌদি আরবসহ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন