বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

হুথি সংঘাতে পশ্চিমা সহায়তা না পেয়ে হতাশ সৌদি আরব

প্রতিরক্ষা সহায়তার একাধিক অনুরোধ এখনো অনুমোদন পায়নি, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে পেয়েছে একটি জ্বালানিবাহী উড়োজাহাজ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা না পেয়ে হতাশা বাড়ছে সৌদি আরবের। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে পাঠানো একাধিক অনুরোধ এখনো অনুমোদন না পাওয়ায় এ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে সীমিত সহযোগিতা পাওয়ায় সৌদি আরবের হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং হুথিদের হামলার ঝুঁকির মধ্যে রিয়াদ আরও কার্যকর প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রত্যাশা করলেও এখন পর্যন্ত সেই চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

যুক্তরাজ্যের সহায়তা, অন্য অনুরোধে অনিশ্চয়তা

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সম্প্রতি সৌদি আরবকে একটি ট্যাঙ্কার এয়ারক্রাফট সরবরাহ করেছে। এ ধরনের উড়োজাহাজ সামরিক বিমানে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য পাঠানো অন্যান্য অনুরোধ এখনো অনুমোদন পায়নি।

ফলে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার প্রচেষ্টা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক সহায়তা পেতে বিলম্ব সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের প্রত্যাশা এবং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে সৌদি আরবের অন্যান্য প্রতিরক্ষা সহায়তার অনুরোধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবের প্রতি প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও চুক্তির বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সব দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি পূরণে ওয়াশিংটন প্রস্তুত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই আশ্বাসের সঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুরোধে ট্রাম্পের কথিত অসম্মতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানানো হলেও নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটন আলাদা হিসাব-নিকাশ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক তৎপরতা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে যুক্তরাজ্যের সীমিত সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা অনুরোধের অনুমোদন না পাওয়ার ঘটনা রিয়াদের প্রত্যাশা ও পশ্চিমা মিত্রদের নীতির মধ্যে ব্যবধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সার্বিকভাবে, হুথিদের সঙ্গে সংঘাত মোকাবিলায় সৌদি আরবের সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সহযোগিতা কতটা সম্প্রসারিত হবে, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন