বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে বিরোধী দল ছায়া সংসদ গঠন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্র সুসংহত করতে সরকারি ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে বিরোধী দলের কার্যকর ছায়া সংসদ থাকলে সরকারের নীতি, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সরকারি ও বিরোধী দলকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সংসদ কার্যকর না থাকলে দেশ আবারও বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিকল্প নেই। আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সংস্কার না হলে সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে না। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম কেন্দ্র। এখানকার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে শিক্ষক, গবেষক ও জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মেধা, মনন, নৈতিকতা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলা ও লেখার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। অতীতের গণতান্ত্রিক অর্জন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা কে সরকারি দল বা কে বিরোধী দল, তা বিবেচ্য বিষয় নয়; আমরা সবাই বাংলাদেশের দল—বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশকে গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসব এবং কাজ করব।”

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তাঁদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে শিক্ষক, গবেষক, বিসিএস কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বিচারক, সাংবাদিক, লেখক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রনায়কেরা উঠে আসবেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম। এ সময় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন