সতর্কবার্তা অমান্য করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগ আইআরজিসির; বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে নতুন উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি সুপারট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সোমবার (১২ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
আইআরজিসির সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে আসছে।
এর আগে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলী ওজমায়ি সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রণালি অতিক্রমের সময় কোনো জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখলে সেটিকে শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও সোমবার জানিয়েছে, আগের দিন হরমুজ প্রণালিতে চারটি পৃথক জাহাজে হামলার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ফলে সেখানে ধারাবাহিক হামলা ও অবরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
তবে সোমবারের হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি, নাবিকদের অবস্থা কিংবা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের হামলার দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

