বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

‘আর চুয়েটে ফিরবেন না’ শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য

প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে ক্যাম্পাস ত্যাগ; পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগান

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ‘আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না’—শিক্ষার্থীদের এমন শর্তের ঘোষণার পর পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি।

উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে এই শর্তে যে তিনি আর চুয়েটে ফিরবেন না। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। তবে শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্তে উপাচার্য সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পদত্যাগের দাবিতে অবরুদ্ধ

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবন-২-এ নিজের কার্যালয়ে যান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তার ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে দেওয়া হলে উপাচার্য সেখানে আটকা পড়েন। এরপর থেকে তিনি ভবনটির ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে ভবন থেকে বের করে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন ১২ জন

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে মোট ১২ জন অবরুদ্ধ ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষক, তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং আটজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপাচার্যকে পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনাটির তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির অবসান ঘটে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি এবং ক্যাম্পাসে তার ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন