বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আইনজীবী হতে ৩৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: আইনমন্ত্রী

আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা; এআই মোকাবিলায় দক্ষতা, বহুমুখী জ্ঞান ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ

আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ৩৫ বছর বয়সের পর আর কেউ আইনজীবী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের কনভোকেশন ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দ্বিতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের কনভোকেশন দেওয়া হয় এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

আইন পেশায় বড় চ্যালেঞ্জ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আইন পেশার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনজীবীদের নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আইন পেশাকে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে, যাতে মানুষ একজন আইনজীবীর কাছে গেলে তাঁকে একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে যাওয়ার মতো আস্থা ও সম্মানের চোখে দেখে।

মন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হতে হলে শুধু আইন জানলেই চলবে না। আইনের পাশাপাশি অর্থনীতি, রসায়ন, নৃবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বহুমুখী জ্ঞান একজন আইনজীবীকে সমাজ ও মানুষের সমস্যা গভীরভাবে বুঝতে এবং পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সহায়তা করবে।

আইনজীবীদের নীতি-নৈতিকতার চর্চার আহ্বান

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে শুধু শিক্ষা, জ্ঞান ও গরিমায় বড় হলেই হবে না; নীতি-নৈতিকতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে। একজন আইনজীবীর পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা ও নৈতিক অবস্থান থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, কোনো আইনজীবী ভালো জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী হলেও অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভ থাকলে তাঁকে প্রকৃত অর্থে ভালো আইনজীবী বলা যায় না। মক্কেলের কাছ থেকে কীভাবে বেশি অর্থ আদায় করা যায়, এমন চিন্তাভাবনা পেশাটির মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আইন পেশায় নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেপেন রদরিগসহ অন্য অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণ আইনজীবীদের পেশাগত প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও নৈতিক মূল্যবোধ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন