বিদ্যালয় থেকে অনলাইন জগৎ—সবখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর বিচার দাবি
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গায় কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুরা যেন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিসর ও ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ করে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের তাগিদ
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ থাকতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পরিবেশ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে কন্যাশিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

