মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, ঢাকা থেকে বাতিল ২৮ ফ্লাইট

রিয়াদ ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ঢাকায় আটকা পড়েছেন ৪ হাজার ৮৫১ যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার জেরে টানা তিন দিন ধরে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও জেদ্দাগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত এসব রুটে মোট ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ঢাকায় আটকা পড়েছেন ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী।

সোমবার বিকেলে এক বার্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, রিয়াদ এয়ারের তিনটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে রিয়াদ ও জেদ্দাগামী যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারছেন না।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১৩

গত শনিবার রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০৮ জন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার ফের হামলা, নিহত পাকিস্তানি নাগরিক

শনিবারের হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার আবারও বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে হুতিরা। ওই ঘটনায় এক পাকিস্তানি প্রবাসী নিহত হন এবং ১১ জন আহত হন।

হুতিদের দাবি, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, পূর্ব সৌদি আরবের তেল স্থাপনা এবং দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদির অন্যান্য বিমানবন্দরেও হামলার হুমকি

ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেছেন, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য সব বিমানবন্দর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ ধরনের হুমকির কারণে দেশটির বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক রুটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আগেও যুদ্ধবিরতি হয়েছিল

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ওই বছরের ২ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ইয়েমেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন