সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ে ধারাবাহিক যোগাযোগ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হলো। তবে বৈঠকে আলোচিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ

দীনেশ ত্রিবেদী চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২৫ জুন তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেন। 

এর আগে এপ্রিল মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয়। তিনি এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা বলে আসছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ

গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য ভারত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে। 

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ওই বৈঠকের পর ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গঠনমূলক অগ্রগতি হতে পারে। 

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন পর্যায়

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে।

জ্বালানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত, পানি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পক্ষ থেকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগও এ ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিকের পরিবর্তে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজনীতিক। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের সরকার তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমমর্যাদার প্রটোকল মর্যাদাও দিয়েছে। 

সামনে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আজকের সৌজন্য সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS Summit-এও প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার ওই আমন্ত্রণ নিয়ে পর্যালোচনা করছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন। 

ফলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের আজকের বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চলমান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্ক উন্নয়নে পারস্পরিক আগ্রহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উভয় পক্ষ থেকেই উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আজকের সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই ধারাবাহিক যোগাযোগেরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন