তালিকায় বিকাশ, বাংলালিংক ও রবির উদ্যোগও; শাখা ছাড়াই অনলাইনে মিলবে ব্যাংকিং সেবা
দেশের ব্যাংকিং খাতে পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা চালুর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এলওআই পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না; চূড়ান্ত লাইসেন্সের আগে পূরণ করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এলওআই পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ভুটানের ডিকে ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রস্তাবিত ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক লিমিটেড, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের উদ্যোগে বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বাংলালিংকের উদ্যোগে নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, রবি আজিয়াটার উদ্যোগে বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক এবং টেকনোহ্যাভেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ এন করিমের প্রতিষ্ঠিত কড়ি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এলওআই পাওয়াকে চূড়ান্ত ব্যাংকিং লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি, মূলধনের শর্ত পূরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণের পরই চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৩ সালের ১৪ জুন জারি করা ডিজিটাল ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৩০০ কোটি টাকা।
প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রমের ধরন হবে ভিন্ন। এসব ব্যাংকের দেশজুড়ে প্রচলিত শাখা নেটওয়ার্ক থাকবে না। ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে। পরিচালন কার্যক্রমের জন্য থাকবে একটি প্রধান কার্যালয়।
এর ফলে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের কাছে অনলাইনেই পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আর্থিক সেবার আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

