অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরাধের তথ্য গোপনে প্রশাসনের কাছে পৌঁছাতে রংপুরে গঠিত হলো ‘সেভ রংপুর’

মাদক, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাস ও কিশোর অপরাধের তথ্য জানাতে পারবেন নাগরিকরা; পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ

মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য জানেন, কিন্তু নিজের পরিচয় প্রকাশ বা পরবর্তী ঝামেলার আশঙ্কায় প্রশাসনের কাছে যেতে পারছেন না—এমন নাগরিকদের জন্য রংপুরে গঠিত হয়েছে নতুন উদ্যোগ ‘সেভ রংপুর’। নিরাপদ শহর গড়তে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়াই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘সেভ রংপুর’-এর কার্যক্রম এবং বিশেষ ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

উদ্যোক্তারা জানান, ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে যেকোনো নাগরিক নিজের পরিচয় গোপন রেখে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে পারবেন। নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

অনুষ্ঠানে ‘সেভ রংপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কো-অর্ডিনেটর আল মামুন বলেন, রংপুরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা এখন জরুরি।

তিনি বলেন, অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পরিচয় প্রকাশ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বাড়ির আশপাশে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি বা অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা থাকলেও অনেকে সরাসরি প্রশাসনের কাছে যেতে চান না।

অনেকের মধ্যে এমন আশঙ্কাও রয়েছে—অপরাধের তথ্য দিলে সাক্ষী হতে হবে কিংবা পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নাগরিকদের পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে জানান আল মামুন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই যারা সেভ রংপুরকে এগিয়ে নিতে চান, তারা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। নাগরিকদের দেওয়া তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা হবে।’

‘সেভ রংপুর’-এর উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধবিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ শহর শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে অপরাধের তথ্য জানালে অপরাধ প্রতিরোধের কাজ আরও কার্যকর হতে পারে।

তারা নাগরিকদের দায়িত্বশীলভাবে সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই, তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা এবং মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জোবায়ের ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, রংপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক পার্থ বোস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম এলতাস উদ্দিন এবং রংপুর মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম বারী রাজসহ অন্যরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন