পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে একাধিক অভিযান • স্বর্ণগুলোকে ‘বিদেশি উৎসের’ বলছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ • পাটনায় ট্রেনযাত্রীর কাছ থেকে ১.৭১ কেজি উদ্ধার, একজন গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারতে স্বর্ণ পাচারের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযানে প্রায় ১২ কেজি বিদেশি উৎসের স্বর্ণ জব্দের দাবি করেছে ভারতের ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। জব্দ করা স্বর্ণের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৭ কোটি ভারতীয় রুপি বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) মাধ্যমে প্রকাশিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্বর্ণগুলোকে ‘বিদেশি উৎসের’ (foreign-origin) হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এগুলোর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ—এমন তথ্য সরকারি বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব স্বর্ণ ভারতে নেওয়া হচ্ছিল।
পশ্চিমবঙ্গে কয়েক দফায় স্বর্ণ উদ্ধার
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে বিএসএফের ১৬১ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গংরা সীমান্ত ফাঁড়ির আওতাধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সড়কের কাছে অভিযান চালান।
সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিদেশি উৎসের স্বর্ণের ২৭টি টুকরা উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন প্রায় ৩.১৫ কেজি। পরে ডিআরআই স্বর্ণগুলো নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতের কাস্টমস অ্যাক্টের আওতায় জব্দ করে।
২১ সেপ্টেম্বর মহাখোলা সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় আরেকটি অভিযানে ২৪ ক্যারেটের বিদেশি উৎসের স্বর্ণের ১০টি টুকরা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে বিএসএফ। এগুলোর মোট ওজন প্রায় ১.১৬ কেজি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতখোলা গ্রামের একটি হ্যান্ডপাম্পের কাছে সীমান্ত বেড়ার সামনের দিকে স্বর্ণগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ডিআরআই সেগুলো জব্দ করে।
সীমান্ত বেড়ার কাছ থেকে ৫.৯ কেজি
এর আগে ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের পাথরগাটা সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় আরও একটি বড় চালান আটকের কথা জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
সেখানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়ার কাছ থেকে বিদেশি উৎসের ৪৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। সেগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৫.৯ কেজি। পরে ওই চালানও ডিআরআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ট্রেনযাত্রীর দুই পায়ে ১.৭১ কেজি স্বর্ণ
বিহারের পাটনায় পৃথক অভিযানে এক ট্রেনযাত্রীর কাছ থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার এবং চারটি ছোট কাটা টুকরা উদ্ধার করেছে ডিআরআই। এগুলোর সম্মিলিত ওজন প্রায় ১.৭১ কেজি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপড়ের তৈরি ‘নি-ক্যাপ’-এর মধ্যে রেখে ওই ব্যক্তির দুই পায়ের সঙ্গে স্বর্ণগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এই চালানের ক্ষেত্রে ডিআরআইয়ের তদন্তে স্বর্ণগুলো বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ রুট’ নিয়ে যা বলছে ভারত
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব অভিযান সীমান্তপথে বিদেশি উৎসের স্বর্ণ পাচার, পরিবহন ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়ার চলমান কার্যক্রমের অংশ। ডিআরআই ও বিএসএফ যৌথভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে সরকারি বিবৃতিতে জব্দ করা স্বর্ণ বাংলাদেশে উৎপাদিত বা বাংলাদেশি মালিকানাধীন—এমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। স্বর্ণগুলোর প্রকৃত উৎস কোন দেশ, বাংলাদেশে সেগুলো কোথা থেকে এসেছে কিংবা সীমান্তের কোন বাংলাদেশি এলাকা ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
একইভাবে এসব চালানের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক, ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্যও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ নেই। ফলে ‘বাংলাদেশ রুট’ ব্যবহারের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের তথ্য হিসেবেই বিবেচ্য; স্বর্ণের উৎপত্তিস্থল হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম India Today বৃহস্পতিবার ঘটনাটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও পাটনার অভিযানগুলোতে উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট পরিমাণ প্রায় ১২ কেজি এবং মূল্য প্রায় ১৭ কোটি রুপি।
সূত্র: ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়/প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB), DRI, BSF ও India Today

