সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো তিন গ্রামে এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রামের উদ্বোধন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসডিজির লক্ষ্যগুলোকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং আগামী পাঁচ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মকৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যেই এ জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো ‘এসডিজি ভিলেজ’ কর্মসূচি

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশে প্রথমবারের মতো এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রাম-এর আওতায় নির্বাচিত তিনটি গ্রামেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাইলট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত গ্রামগুলো হলো—

  • নাফানগর — বোচাগঞ্জ উপজেলা, দিনাজপুর
  • পানখালী — দাকোপ উপজেলা, খুলনা
  • মিতিংগাছড়ি — কাপ্তাই উপজেলা, রাঙামাটি

এসব গ্রামে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজির সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্ব

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গসমতা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও অংশগ্রহণকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

নির্বাচিত তিনটি গ্রামের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের কর্মসূচি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো

জাতীয় সম্মেলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আগামী পাঁচ বছরে এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কীভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব—তার একটি সমন্বিত কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা।

এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এসডিজির লক্ষ্যগুলো শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর উদ্যোগ

এসডিজির মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছায়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে এসডিজি ভিলেজ কর্মসূচি একটি পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। নির্বাচিত গ্রামগুলোতে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জাতীয় সম্মেলন এবং তিনটি এসডিজি ভিলেজের পাইলট কার্যক্রমকে আগামী পাঁচ বছরে দেশের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন