সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট, প্রায় এক ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় অবস্থিত সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিল্প পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এ তথ্য জানান।
বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ
আন্দোলনরত শ্রমিক তরিকুল, মাফুজ ও হাসমত আলী জানান, গত ১০ অক্টোবর বকেয়া বেতনের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন। সেদিন কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়েও তাঁরা বেতন পাননি। বুধবার বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে টালবাহানা করতে থাকে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার দাবি পুলিশের
অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে শ্রমিকরা সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে অবরোধ চালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “আন্দোলনরত শ্রমিকদের মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব জানিয়ে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু তাঁরা অনুরোধে সাড়া না দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তাই কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মহাসড়ক থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়।”
বেতন পরিশোধে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ
আমজাদ হোসাইন বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—শ্রমিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়।

