রূপচর্চার বদলে মেধা ও প্রতিভার স্বীকৃতিতে নতুন উদ্যোগ; গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে অংশ নিলেন ৮৪ তরুণী
নারীদের মেধা ও প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতে দেশব্যাপী সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুর্কিনা ফাসো। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে মেধাবী তরুণীদের উৎসাহিত করা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
২০২৬ সালের জুনে দেশটির সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলাকালে সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে। এর পর আগস্টে ‘হাকিলি মুসো’ নামে একটি বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া।
তিন বিষয়ে প্রতিযোগিতা
সংবাদমাধ্যম ব্রিফলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় ৮৪ জন তরুণী অংশ নেন। তাঁদের প্রত্যেকেই ২০২৬ সালে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট বা উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীরা এক সপ্তাহব্যাপী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। এরপর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন তাঁরা। প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়।
পুরস্কার ও বৃত্তির ব্যবস্থা
প্রতিযোগিতায় প্রতিটি বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারীদের জন্য ছিল ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য পুরস্কার। এ ছাড়া সেরা প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।
আয়োজকদের লক্ষ্য, মেধাবী তরুণীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত বিকাশের সুযোগ বাড়ানো।
বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় নারীদের উৎসাহ
প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশটির রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ট্রাওরে। এ সময় তিনি তাঁদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে, বৈজ্ঞানিক পেশা বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্য—এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুন্দরী প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মেধা ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার এই উদ্যোগ বুর্কিনা ফাসোর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নারীদের সক্ষমতার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টাকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে।

