বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন, ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

সাইবার অপরাধ দমন এবং ডিজিটাল তদন্ত কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং নাগরিকদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) লাইন্সের দামপাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি।

“Safer Cyberspace for Digital Bangladesh: Enhancing National & Regional Digital Investigation Capability of Bangladesh Police” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, বিপিএম এবং কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ

বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধিও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো, ফিশিং, ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এ ধরনের অপরাধের তদন্তে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি

বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে কোইকার সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিজিটাল অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে নাগরিকদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার পথ সুগম হতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে এ উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন