বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে হামলার তথ্য ফাঁস নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন গুলি করার কথা

ইরানে মার্কিন হামলার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ; ফাঁসকারীদের কারাদণ্ড বা গুলি করার মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের

গোপন সরকারি তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁসকারী ব্যক্তিদের গুলি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মতে, তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করা উচিত। অতীতে কোনো দেশে হামলার সময়সূচি ফাঁস করার দায়ে তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করা হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানে মার্কিন হামলার তথ্য ফাঁস নিয়ে ক্ষোভ

গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ওই অভিযানটির নাম ছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’।

হামলার পর মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন বোমা হামলার আগেই ইরান তাদের কিছু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ট্রাম্পের দাবির তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে মার্কিন হামলার সুনির্দিষ্ট সময়ও ছিল। তাঁর দাবি, এতে সামরিক সদস্যদের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং অভিযান দুই দিন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল।

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনকে দায়ী করার অভিযোগ

ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো সামরিক অভিযানের সময়সূচি প্রকাশ করে মার্কিন সেনাসদস্যদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো কখন মার্কিন বাহিনী কোনো স্থানে পৌঁছাবে এবং কখন সেখান থেকে সরে যাবে, সেই তথ্য ফাঁস করেছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, তথ্য ফাঁসকারীদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া উচিত অথবা গুলি করা উচিত।

তবে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উঠে আসেনি।

তথ্য ফাঁস ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈরী সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এর আগেও গোপন সরকারি তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ডিআইএর প্রতিবেদনের তথ্য ফাঁসের জন্য সে সময় ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতাদের দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা-সংক্রান্ত সামরিক তথ্য ডেমোক্র্যাটরাই ফাঁস করেছেন এবং তাঁদের বিচার হওয়া উচিত।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্মী ও সামরিক কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালতের সমন জারি করা হয়েছে, যাতে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ তথ্যের উৎস শনাক্ত করা যায়।

প্রথম মেয়াদেও কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজের প্রথম মেয়াদেও তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

২০২০ সালে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের একটি বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন—এমন খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি তথ্য ফাঁসকারীদের ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন বলে ২০২১ সালে এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা এলিসা ফারাহ গ্রিফিন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতে অ্যারিজোনার সমাবেশে ট্রাম্প আবারও তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি তাঁদের ‘এই পৃথিবীর আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর আচরণ করা উচিত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন