বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আদালতের নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন, আক্রোশের শিকার হওয়ার অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রারের

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আদালতের নির্দেশে সন্দেহজনক একটি দলিলের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের পর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তার দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জেরে মামলার এক আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দাবি করেছেন, তাদের দলিল জাল নয় এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়াই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে জমির নামজারি এবং অন্যের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ২১১/২০০১ নম্বর দলিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রেকর্ডের অসংগতি পাওয়া যায়। এতে দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার মজিবুল হক দলিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে ১১৩/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের জুনে প্রতিবেদন জমা দেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক।

কার্যালয় সূত্রের দাবি, তদন্তে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া ও জমির দখলসংক্রান্ত বিভিন্ন অসংগতি উঠে আসে। প্রতিবেদনে জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে মামলার সংশ্লিষ্ট আসামিরা প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।

সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাভোগের পর সাংবাদিক সেলিম গত ৪ অক্টোবর তার কার্যালয়ে আসেন। এরপর গত ৯ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সিরাজুল হক বলেন, “আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।” প্রকাশিত সংবাদে তার পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক সেলিম বলেন, তাদের দলিল জাল নয়। সাব-রেজিস্ট্রারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

সোনাইমুড়ী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সোহরাব হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাল দলিলের অভিযোগে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারাভোগ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জাল দলিল টেম্পারিং করে জমা খারিজের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলে সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্তে জাল দলিলের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদন দেন। পরে ওই দলিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।

তবে দলিলের বৈধতা, তদন্তের যথার্থতা এবং সংবাদ প্রকাশের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন