সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা; মহাসড়কে তীব্র যানজট
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের চেষ্টায় বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগ দেন। আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. শরীফুল ইসলাম অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বিজিবির অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কারখানাটিতে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে আরও ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ২১টি ইউনিট কাজ করে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানান, তাঁর নেতৃত্বে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিমও প্রাথমিকভাবে তিনটি ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আরও ইউনিট পাঠানো হয়।
সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহযোগিতা
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা সহযোগিতায় অংশ নেন। আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বিজিবির অংশগ্রহণের কথা জানান।
বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট
এদিকে, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, কী পরিমাণ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুনের সূত্রপাতের কারণ কী—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

