শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভোট চুরির অভিযোগে উত্তাল ভারতের রাজনীতি, মোদি-অমিত শাহকে সরাসরি অভিযুক্ত করলেন রাহুল গান্ধী

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ • দিল্লির রাজঘাটে বিরোধী জোটের অবস্থান • রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে এফআইআর • রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি • বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে চাপে ফেলার অভিযোগ বিজেপির

প্রান্তকাল আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। এদিন মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মোদি-অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগ

বৃহস্পতিবার রাজঘাটে বিরোধী নেতাদের অবস্থান কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।

রাহুলের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং সংবিধানের মৌলিক চেতনা বিপন্ন হচ্ছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একদিন জবাবদিহির আওতায় আনার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত সত্য নয়। বিজেপি ও সরকারের প্রতিনিধিরা বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রাজঘাটে বিরোধী জোটের শক্তি প্রদর্শন

বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের উদ্যোগে দিল্লির কনট প্লেসের একটি রেস্তোরাঁয় বিরোধী জোটের সংসদ সদস্য ও নেতাদের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

সেখান থেকে নেতারা রাজঘাটে যান এবং মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মসূচিতে কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে অংশ এবং এনসিপির শরদ পাওয়ারপন্থী অংশসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আগের দিনের বৈঠকে অনুপস্থিত কয়েকটি দলের নেতারাও বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেন। এতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলগুলোর সমন্বয় আরও দৃশ্যমান হয়।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, ভোটারদের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে সরকার বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দিচ্ছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, আন্দোলন এখানেই শেষ হচ্ছে না। পরবর্তী দিনগুলোতেও বিরোধী জোট কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম, যা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর নামে পরিচিত।

নির্বাচন কমিশনের এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা যাচাই, অযোগ্য বা মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকার যথার্থতা নিশ্চিত করা।

কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে সমস্যার মুখে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার যথার্থতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে।

এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—প্রকৃত ভোটারদের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা সম্ভব।

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বুধবার নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়। তাঁদের কয়েকজনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।

পরে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়েরের খবর প্রকাশিত হয়।

বিরোধী নেতাদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চাইলেও প্রশাসন তাঁদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে।

রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার বলেন, বিরোধী জোটের প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম দিন নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে এবং দ্বিতীয় দিন যন্তর মন্তরে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।

তবে পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান হলো, নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা জোরদার

বিক্ষোভের মধ্যে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাসভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তাঁর বাসভবনের অবস্থান শনাক্ত করার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী নেতারা।

ওডিশাতেও ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন

দিল্লির পাশাপাশি ভারতের ওডিশা রাজ্যেও বৃহস্পতিবার বিরোধী জোটের ডাকা বন্‌ধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের শিক্ষাসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়েও বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ জানান।

বন্‌ধের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এর ফলে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন শুধু দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিভিন্ন রাজ্যেও প্রতিবাদের কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে।

পাল্টা আক্রমণে বিজেপি

বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে ক্ষমতাসীন বিজেপি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৃষ্ণ পাল গুর্জর বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত বিষয়টি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন। এ অবস্থায় বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিজেপি নেতা প্রদীপ ভান্ডারীও রাহুল গান্ধীর আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিচারিক প্রক্রিয়ার আগে রাস্তায় বিক্ষোভের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।

বিজেপির দাবি, বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।

অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটাধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষার দাবি তোলা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি

টানা তিন দিনের বিক্ষোভের পর আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছে বিরোধী জোট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিরোধী সংসদ সদস্যদের সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে সমবেত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।

বিরোধী নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাঁদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে চান।

তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কর্মসূচির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক

ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোটার তালিকার যথার্থতা নিশ্চিত করা এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিরোধীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি মনে করছে, বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, বাদ পড়া ভোটারদের আপিলের সুযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিভিন্ন বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত দাবিতে যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। এর ফলে আন্দোলনের সাংগঠনিক পরিসর বাড়ছে।

তবে বিরোধীদের অভিযোগের সত্যতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রকৃত প্রভাব এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিচারিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাত এখন শুধু একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে দেশটির সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন