শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা নয়, ঘোষণা ট্রাম্পের

তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের; তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে

প্রান্তকাল আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে আলোচনা চললেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে না।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রভাব এখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রশ্নেও এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে যুদ্ধের ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তাঁর প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক তেলবাজারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণায় অন্তত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইরানে নতুন মার্কিন হামলা না চালানোর অবস্থান প্রকাশ পেলেও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কিংবা চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য জানানো হয়নি


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন