শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যশোরে জিওয়াইএলএফের সচেতনতামূলক সেমিনার

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে যশোরে সচেতনতামূলক সেমিনার করেছে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারস ফোরাম (জিওয়াইএলএফ) বাংলাদেশের যশোর টিম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের ডাকাতিয়া ইব্রাহিম উচ্চ বিদ্যালয়ে রাইজএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের ১৯ জন শিক্ষক ও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীসহ মোট ১৭০ জন অংশ নেন।

জিওয়াইএলএফের যশোর টিমের দলনেতা জেসান গাঠিয়া ও মার্ক মৈনাক রাব্বির নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল সেমিনারটি পরিচালনা করে। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়।

পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে শরীর ঢাকা পোশাক পরা, প্রয়োজনে অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং দরজা-জানালায় মশা প্রতিরোধক জাল লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যবহারিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে ফুসকুড়ি ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং পরিবার ও সমাজে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণেরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

জিওয়াইএলএফের যশোর টিমের অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হলেন জেসান গাঠিয়া, মার্ক মৈনাক রাব্বি, ক্রিশ ম্যাথিউ, ইমন বিশ্বাস, মন্দির রাজোত্তা, স্বাধীন বিশ্বাস, স্বপ্ন বিশ্বাস ও হ্যাপি সরকার।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, যশোর ছাড়াও ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠনটি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। জিওয়াইএলএফ বাংলাদেশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অ্যাম্বাসেডর জন সাব্বির রানার নেতৃত্বে।

সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকেরা ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন