শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পাঠাওয়ের প্রায় ২ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারের, কিছু তথ্য ফাঁসের কথা স্বীকার

দেশের রাইড শেয়ারিং ও অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় দুই কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির দাবি করেছে একটি হ্যাকার চক্র। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঘটনার পর কিছু ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে পাঠাও। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর পাঠাওয়ের প্ল্যাটফর্মে সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হলেও সিস্টেমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাঠাওয়ের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে। তবে কতজন ব্যবহারকারী এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, পরিচয়পত্র কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্যও অননুমোদিতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পাঠাও।

পাঠাও জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। তবে সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলমান থাকায় কিছু ব্যবহারকারী সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।

তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পাঠাও। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, পাঠাওয়ের পরিচয় দিয়ে কেউ অপ্রত্যাশিত ফোনকল, বার্তা বা ই-মেইল পাঠালে কিংবা সন্দেহজনক লিংক দিলে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত শনাক্তকরণ নম্বর (পিন) বা এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় ব্যবহারকারীদের সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা খেয়াল করা এবং একই পাসওয়ার্ড একাধিক সেবায় ব্যবহার করলে তা পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

প্রায় দুই কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পাঠাওও প্রকাশ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা জানায়নি। ফলে হ্যাকার চক্রের দাবিকৃত তথ্যের পরিমাণ, তথ্যগুলোর প্রকৃতি এবং সেগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ঘটনায় কতজনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কী ধরনের তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে গেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয়ে পাঠাওয়ের পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন