অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুরআন শিক্ষা ও চর্চায় উৎসাহ দিতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী কোরআন হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি দেশে কুরআন শিক্ষা ও চর্চাকে আরও উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের এ ধরনের সাফল্য অর্জন দেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা বিজয়ী প্রতিযোগীদের পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাইকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং হাফেজ-আলেমদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা দেশের জন্য সুনাম ও গৌরব বয়ে আনছেন, তাদের যথাযথভাবে সম্মানিত করা হলে অন্য শিক্ষার্থীরাও কুরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত হবে।

রাষ্ট্রপতি ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ রাখতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এ দেশের মানুষ অতীতেও নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন এক অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

সাক্ষাৎকালে বিজয়ী প্রতিযোগীরা তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষক-উস্তাদদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা বলেন, মাদ্রাসা-মক্তবসহ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সম্মানিত করা হলে কুরআন চর্চা এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।

এ সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিজয়ীরা।

কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজয়ী প্রতিযোগীদের মধ্যে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। একই বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) এবং সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিভাবক, উস্তাদ এবং কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজদের হাতে রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট তুলে দেন। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিবগণসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন