অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

নিকাব পরা শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি

উপস্থিতির নম্বর কেটে নেওয়ার হুমকির অভিযোগে প্রো-ভিসিকে ডাকসু প্রতিনিধিদলের স্মারকলিপি; নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘টেররিস্ট’ (সন্ত্রাসী) বলে মন্তব্য এবং উপস্থিতির নম্বর থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের (প্রো-ভিসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, নিকাব পরিধানের কারণে ওই শিক্ষার্থীকে অপমানজনক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি উপস্থিতির নম্বর থেকে বঞ্চিত করার হুমকির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

প্রতিনিধিদল স্মারকলিপিতে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছে।

১. অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।

৩. সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

৪. অভিযুক্ত শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একাডেমিক মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

৫. অভিযোগ উত্থাপনকারী বা সংশ্লিষ্ট কোনো শিক্ষার্থী যেন একাডেমিক ক্ষতি, হয়রানি কিংবা প্রতিহিংসামূলক আচরণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়মিত ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য

স্মারকলিপি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে বিভাগের নিয়মিত ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কি না এবং অব্যাহতির মেয়াদ ও পরিধি কতটুকু, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, কেবল পাঠদান থেকে অব্যাহতি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধর্মীয় পোশাকের কারণে বৈষম্যের অভিযোগ

প্রতিনিধিদলের অভিযোগ, একজন শিক্ষার্থী তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করার কারণে অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও দূর করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব ও নিকাব পরিধানকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ বন্ধ এবং সব শিক্ষার্থীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছে।

বিশেষ করে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনার প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের একাডেমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন