মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়। এটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়ায়।
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বৃদ্ধিকে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো।
রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই নৌপথে তেলবাহী জাহাজে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে জাহাজ মালিকদের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো তেল পরিবহনপথ চালুর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো উদ্যোগকে বৈরী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদনও কমেছে। ট্রপিক্যাল স্টর্ম ইসাইয়াসের প্রভাবে শেল ও শেভরনসহ কয়েকটি কোম্পানি তাদের অফশোর কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।

