অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে পাঠানো মা কোথায়? আসামের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি প্রত্যাখ্যান ছেলের

‘মা নিরাপদে আছেন’—হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি; ছেলের বক্তব্য, কোনো যোগাযোগ নেই। মমতাজকে ফিরিয়ে আনতে হাইকোর্টের নির্দেশ, বাংলাদেশেও অনুসন্ধানের খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রান্তকাল

ভারতের আসাম রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পাঠানো ৪৩ বছর বয়সী মমতাজ বেগমের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, মমতাজ বাংলাদেশে নিরাপদে রয়েছেন এবং তাঁর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মমতাজের ছেলে মমরুজ আলী। তাঁর দাবি, মায়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটিও তাঁদের জানা নেই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে গৌহাটি হাইকোর্টের আগের একটি নির্দেশের কারণে। আদালত মমতাজকে বাংলাদেশে খুঁজে বের করে ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

এক নজরে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মুখ্যমন্ত্রীর দাবি: বাংলাদেশে নিরাপদে রয়েছেন মমতাজ বেগম।
  • ছেলের প্রতিবাদ: মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি অস্বীকার করেছেন মমরুজ আলী।
  • হাইকোর্টের নির্দেশ: মমতাজকে শনাক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
  • ক্ষতিপূরণের নির্দেশ: পরিবারকে না জানিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় দুই লাখ রুপি অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণের নির্দেশ।
  • বাংলাদেশেও অনুসন্ধান: ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মমতাজের অবস্থান নিশ্চিত হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী বলছেন নিরাপদ, ছেলে বলছেন যোগাযোগ নেই

মমতাজ বেগমের অবস্থান সম্পর্কে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য এবং তাঁর পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মমতাজ বাংলাদেশে নিরাপদে আছেন এবং ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

অন্যদিকে মমরুজ আলী জানিয়েছেন, তাঁর মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

পরিবারের দাবি, মমতাজ কোথায় রয়েছেন, কী অবস্থায় আছেন এবং আদৌ নিরাপদে আছেন কি না—এসব বিষয়ে তাঁদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই।

এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে মমতাজের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মমতাজকে ফিরিয়ে আনতে হাইকোর্টের নির্দেশ

মমতাজ বেগমের ঘটনাটি এর আগেই ভারতের বিচারব্যবস্থার নজরে আসে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটি হাইকোর্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মমতাজের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে পরিবারকে না জানিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আদালত তাঁর স্বামী মুজাম্মেল হককে দুই লাখ ভারতীয় রুপি অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের এই নির্দেশ মমতাজের অবস্থান শনাক্ত এবং তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশেও খোঁজ, অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা

মমতাজ বেগমকে খুঁজে বের করতে বাংলাদেশেও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মমতাজের অবস্থান শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাতে বলা হয়, সিলেট অঞ্চলে অনুসন্ধান চালিয়েও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মমতাজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নাগরিকত্ব ও সীমান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন

মমতাজ বেগমের ঘটনা ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া এবং মানবিক সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে এনেছে।

কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে তাঁর নাগরিকত্ব, আইনগত অবস্থান, সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশেষ করে কাউকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পরিবার নিশ্চিত হতে না পারলে নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন দেখা দেয়।

মমতাজের ক্ষেত্রে পরিবারকে অবহিত করার বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় আসায় ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

পরিবারের অপেক্ষা, উত্তর মেলেনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের

মমতাজ বেগমের অবস্থান নিয়ে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অজানা।

তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের কোন এলাকায় রয়েছেন? তাঁর নিরাপত্তা সম্পর্কে আসামের মুখ্যমন্ত্রী কোন তথ্যের ভিত্তিতে আশ্বাস দিয়েছেন? পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য রয়েছে কি? আর গৌহাটি হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য এবং মমতাজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রয়োজন।

একদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, মমতাজ নিরাপদে আছেন। অন্যদিকে তাঁর ছেলে বলছেন, মায়ের কোনো খোঁজই পাচ্ছেন না।

সরকারি দাবি ও পরিবারের বক্তব্যের এই বিরোধের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত—মমতাজ বেগম আসলে কোথায়?


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন