বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করতে ফ্যাসিবাদের দোসররা তৎপর: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সরকার কোনো ধরনের নৈরাজ্য, অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের সরকার। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের আগে দেওয়া বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা ও পচা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

রিজভী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনগণকে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের আহ্বান

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রতিটি পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, শুধু মশার লার্ভা ধ্বংস করলেই হবে না; একই সঙ্গে মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রিজভী বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার কর্মী ও সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন। এ কর্মসূচিকে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান রিজভী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ৫০ টাকা ফি নেওয়া হতো। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে। ফলে দেশের যেকোনো নাগরিক সরকারি হাসপাতালে গিয়ে বিনা খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারবেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রিজভী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার লার্ভা ধ্বংস এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন