বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান, বরিশালে বিভাগীয় জনসচেতনতা সভা

ইলিশ রক্ষা এবং দেশের মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বরিশালে বিভাগীয় জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জেলে, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।

গতকাল বুধবার বরিশাল নগরীতে আয়োজিত ‘মা ইলিশ রক্ষা ও টেকসই মৎস্য সম্পদ বরিশাল বিভাগীয় জনসচেতনতা সভা-২০২৬’-এ বক্তারা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের প্রজনন বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় বরিশালের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) কাজী মো. ছোয়াইব এবং বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান।

মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান

সভায় বক্তারা বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ। এর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের ভারসাম্য ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এ জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদ-নদীতে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ইলিশ পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাত বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মা ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেলেদের সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব

সভায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্ভরশীল জেলেদের জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। এতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সাময়িক আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি তারা আইন মেনে চলতে আরও উৎসাহিত হবেন বলে মত দেন তারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার প্রয়োজন

বক্তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদ-নদীতে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ ক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নদী ও বাজার এলাকায় নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে।

সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, জেলে প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা মা ইলিশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বক্তারা বলেন, ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা শুধু সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয় নয়; এটি দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই জেলে সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিতের প্রত্যাশা

সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মা ইলিশ নিরাপদে প্রজননের সুযোগ পাবে। এর ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্বও নিশ্চিত হবে।

মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।

সভায় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, জেলে প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন