বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য, তরুণরাই বড় শক্তি: ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, আগামী দিনের এই বড় অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে দেশের তরুণ প্রজন্ম।

তিনি বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে তরুণদের এখন থেকেই প্রযুক্তি, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

আজ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএপির আইন ও মানবাধিকার বিভাগ এবং ইউনেস্কো মাদানজিত সিং সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজের (ইউএমএসএআইএলএস) যৌথ আয়োজনে তৃতীয় ‘ইউএমএসএআইএলএস-ইউএপি মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়।

তরুণদের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতের অর্থনীতি

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকবে তরুণ প্রজন্ম। তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

তিনি বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ।

উচ্চপ্রযুক্তি ও বিনিয়োগে গুরুত্ব

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার উচ্চপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিকাশের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে হলে তরুণদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না; বাস্তব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

‘আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’

তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আপনারাই দেশের ভবিষ্যৎ, দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখনই প্রস্তুত হন। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বড় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের প্রস্তুতিই ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজেদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

আইন পেশায় এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব

আইন পেশার নৈতিকতা এবং প্রযুক্তির যুগোপযোগী ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনগত গবেষণা এবং পেশাগত কাজের ধরন দ্রুত পরিবর্তন করে দিচ্ছে।

প্রযুক্তি মানুষের কাজকে সহজ ও দ্রুত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার-বিশ্লেষণ, সততা, নৈতিকতা এবং মানবিক দায়িত্ববোধের কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও আইন পেশায় মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

মুট কোর্টে বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ

মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ের চেয়ে নিজের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে অংশ নেওয়া এবং সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এবং ইউএপির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাইদ মোস্তাক আহমেদ।

আইন ও মানবাধিকার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, যুক্তি উপস্থাপন, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।

জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ার তাগিদ

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধও তৈরি করতে হবে।

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সমন্বিত বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন