দায় স্বীকার ও অনুশোচনার প্রশ্ন সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম India Today। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বর্তমান সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্যে তুলনামূলক সমঝোতামূলক সুরের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে জাহেদ উর রহমান এখনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেননি। বরং পুনর্মিলনের আগে দলটির নেতৃত্বকে অতীতের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার ও অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।
‘পুনর্মিলনের উদ্যোগ খারাপ নয়’
জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে এখনো আওয়ামী লীগের সমর্থক রয়েছেন এবং তারাও বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়াকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখছেন না।
তবে এমন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি মৌলিক ভিত্তি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুনর্মিলনের আগে সেই কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার ও অনুশোচনার বিষয়টি সামনে আসতে হবে।
তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও টানেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, কোনো অপরাধ স্বীকার করলেই তার আইনি দায় শেষ হয়ে যায় না; ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টিও থেকে যায়।
মধ্যস্থতাকারীদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ
তৃতীয় কোনো পক্ষ রাজনৈতিক পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিতে চাইলে তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
তার মতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হলে পরবর্তী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে বর্তমানে সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে দায় স্বীকার বা অনুশোচনার ইতিবাচক অবস্থান দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জাহেদ।
বক্তব্যকে যেভাবে দেখছে India Today
India Today-এর প্রতিবেদনে জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যকে আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বর্তমান সরকারের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে আসা বিরল সমঝোতামূলক বার্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বক্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এর আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর বক্তব্য এসেছে।
তবে জাহেদের সর্বশেষ বক্তব্যের মূল শর্ত হচ্ছে—পুনর্মিলনের প্রশ্ন সামনে আসার আগে আওয়ামী লীগকে নিজের ভূমিকা ও দায়ের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও একই বক্তব্য
বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পুনর্মিলনকে অসম্ভব বলেননি; বরং আওয়ামী লীগ প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে এগিয়ে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন।
তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, শুধু আলোচনা শুরু করাই যথেষ্ট নয়। পুনর্মিলন কার সঙ্গে হবে, কী ভিত্তিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান কী—এসব বিষয় আগে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
ফলে জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা হিসেবে নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

