গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়।
দীর্ঘদিন পর কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার সরবরাহে দীর্ঘদিনের যে সংকট ও ভোগান্তি ছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি কেপিআই-১ মানসম্পন্ন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী কারখানা। স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর কারখানাটিতে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় মেরামত ও ত্রুটি নিরসনের কাজ শেষে মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে যমুনা সার কারখানা।
বর্তমানে কারখানাটি থেকে উৎপাদিত সার দেশের ২০টির বেশি জেলায় প্রায় আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় এসব এলাকায় সারের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
যমুনা সার কারখানার বিভাগীয় প্রধান (উৎপাদন) মো. ফজলুল হক বলেন, “প্রায় আট মাস পর গ্যাস সংকট কাটিয়ে মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। আশা করছি, অতিদ্রুত সারাদেশে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত সার সরবরাহ করা হবে।”

