সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলন ‘AI Governance in Practice: Practical Use Cases, Institutional Capacity, Innovation at Scale and Global Cooperation’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে এআই বিভাজনে পরিণত না হয়, সেটিই বাংলাদেশের অঙ্গীকার। এআই এখন আর শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এটি ইতোমধ্যে পরিবর্তন আনছে।
তিনি বলেন, এআই কত দ্রুত গ্রহণ করা হবে, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়; বরং কতটা প্রজ্ঞা, দায়িত্বশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে এ প্রযুক্তি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এআই সুশাসনের জন্য তিনটি মৌলিক নীতির কথা তুলে ধরেন ফকির মাহবুব আনাম। এগুলো হলো—সরকারি খাতে এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানবকেন্দ্রিকতা নিশ্চিত করে আস্থা তৈরি; দক্ষ মানবসম্পদ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, কার্যকর ডেটা গভর্ন্যান্স ও সময়োপযোগী আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি; এবং অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য তৈরি না করে; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি উদ্ভাবন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে এবং কোনো দেশকে পিছিয়ে না রেখে এআইভিত্তিক রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

