সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় পুনর্মিলনের আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যাসিস্টদের বিচার সম্পন্ন করার পর জাতীয় পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘মহাসংলাপ: ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার প্রচেষ্টার কারণেই বিশ্বব্যাপী জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হচ্ছে। বিচারিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কাঠামো যেন শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তে সাধারণ নাগরিকের সেবায় নিয়োজিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫ আগস্ট বা তার পূর্ববর্তী সময়ে যা ঘটেছে, তা শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর একটি মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়ন। ওই সময় নাগরিকরা আইনের শাসন উপেক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা শাসনব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য জনগণ লড়াই করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জনগণ এমন একটি নজির স্থাপন করতে চেয়েছিল, যাতে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সাহস না পায়।

৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শাসনব্যবস্থার সঙ্গে কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। জনগণের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা রাষ্ট্রযন্ত্র যারা পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে এমন শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যা স্বৈরাচারী আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিহত করতে সক্ষম। বাংলাদেশে বর্তমানে সেই নতুন ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজপথে যে মূল্য দিতে হয়েছে, সে বিষয়েও তারা গভীরভাবে সচেতন বলে জানান তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সরকার কাঠামোগতভাবেই জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে এবং স্বৈরতন্ত্রের অধ্যায়গুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশে একসময় বিচারহীনতার রাজনীতি ছিল। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করছে। সরকার আইনের শাসন নিশ্চিত করবে এবং জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনবে বলেও জানান তিনি।

সেশনে আরও অংশ নেন ভারতের ইউনিভার্সিটি অব রাজস্থানের সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক Karori Singh, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষক Madalitso Zililo Phiri এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর Nikki Singer।

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সোমবার ছিল সমাপনী দিন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন