তেল স্থাপনার কাছে আগুন-ধোঁয়া, হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময় রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর একটি স্থাপনায় আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে ওই আগুন হুথিদের দাবি করা হামলার ফল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন, রিয়াদের একটি তেল স্থাপনাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য এলাকায় হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার আশপাশ থেকে আগুন ও বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। তবে ঘটনার পরপরই সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি। আরামকোর কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ কারণে তেল স্থাপনায় দেখা দেওয়া আগুন এবং হুথিদের দাবি করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ঘটনাস্থলের বর্ণনায় রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর শোধনাগারে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ির উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছে।
ইয়ানবুর পর এবার রিয়াদ
এর মাত্র কয়েক দিন আগে সৌদি আরবের ইয়ানবু এলাকায় আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুথিরা।
সৌদি আরব সে সময় জানিয়েছিল, তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে আরামকোর কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য তখন সৌদি কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
রিয়াদের সর্বশেষ ঘটনাকে ঘিরেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। হুথিরা তাদের অভিযান সফল হওয়ার দাবি করলেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের রিয়াদে হামলার দাবি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বাড়ছে সৌদি-হুথি উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করছে হুথিরা। অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেও সামরিক হামলা বেড়েছে।
হুথি-ঘনিষ্ঠ আল-মাসিরাহ টেলিভিশন দাবি করেছে, সানায় একাধিক বিমান হামলা হয়েছে। চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা ইয়েমেন যুদ্ধকে আবারও বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সৌদি আরব ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
সর্বশেষ সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো আবারও লক্ষ্যবস্তু হওয়ার দাবি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে রিয়াদের আরামকো স্থাপনায় শনিবারের আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

