জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল সরকার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়নকে আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও স্মার্ট ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল সরকার ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব মামলায় তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে।
সোহেল সরকারের পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসও দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ২০০৬ সালে তাঁর বড় ভাই ও তৎকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হায়দর আলী বাবু নিহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল হিসেবে দাবি করা হয়।
সোহেল সরকার বলেন, শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করে আসছেন। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সোহেল সরকার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। পোগলদিঘা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো ত্বরান্বিত করতে বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আমার এই প্রার্থিতা ঘোষণা। পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ, উন্নত, জবাবদিহিমূলক ও স্মার্ট ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।”
এ সময় তিনি পোগলদিঘা ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং দলীয় সমর্থনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোহেল সরকারের প্রার্থিতা ঘোষণাকে ঘিরে পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাঁর অবস্থান ও দলীয় সমর্থনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

