রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কুয়াকাটায় জমি দখলের অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে জেলা কমিটির শোকজ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে বিরোধীয় জমি দখলে সহযোগিতার অভিযোগে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটনের স্বাক্ষরিত নোটিশটি জারি করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিচারাধীন ও আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকা একটি জমি দখলে সহযোগিতার অভিযোগ জেলা বিএনপির নজরে এসেছে। একই সঙ্গে বিরোধীয় জমি নিয়ে একতরফাভাবে বিচার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এসব কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক আচরণ ও দলের ভাবমূর্তির পরিপন্থী বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুতর আখ্যা দিয়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির পক্ষ থেকেও জমি বিরোধসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি বা বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দলীয় কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষী ও প্রমাণাদিসহ উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে অনুপস্থিতিতেই অভিযোগের বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “মতিউর রহমানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর জবাব পাওয়ার পর দলীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান বলেন, “কুয়াকাটা পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ প্রতিকার পেতে আমাদের কাছে আসেন। তবে বিরোধীয় জমি নিয়ে মামলা থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা আমাদের জানাননি। এ কারণেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।”

তবে শোকজ নোটিশের পর তাঁর লিখিত জবাবের ভিত্তিতে জেলা বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা পরবর্তী সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন