রাজধানী ঢাকায় অটোরিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তার আওতায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ বিষয়ে দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নীতিমালার আওতায় চলবে অটোরিকশা
শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকার সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এ ধরনের যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি জানান, অটোরিকশা চলাচল নিয়ে দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। নীতিমালার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন
অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন ও উন্নয়নকাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সড়কমন্ত্রী। তিনি জানান, লেকের পুনঃখননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় শুধু লেক পুনঃখনন নয়, এর সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ধানমন্ডি লেকের সামগ্রিক পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় ও জনবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডির মনোরম পরিবেশ সংরক্ষণ, এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই লেকের উন্নয়ন ও পুনঃখননকাজ করা হচ্ছে।
নির্মাণ হবে ‘নজরুল মঞ্চ’
প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডি লেকে নির্মাণ করা হবে ‘নজরুল মঞ্চ’। সেখানে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ থাকবে।
এর ফলে ধানমন্ডি লেককে শুধু বিনোদন বা হাঁটাচলার স্থান হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের জন্যও একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পুরো ধানমন্ডিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরো ধানমন্ডিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ধানমন্ডিতে আবার একটি নজরুল মঞ্চ করা হবে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করা যাবে। এর মাধ্যমে ধানমন্ডির সাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মো. আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেক সংরক্ষণের বিষয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করে আসছেন। লেকের ওয়াকওয়ে কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, লেকের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব
ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য সংরক্ষণ, অন্যদিকে নগরবাসীর জন্য উন্নত বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে লেকের উন্নয়ন করা হলে ধানমন্ডির সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ওয়াকওয়ে সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাংস্কৃতিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য লেককেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধাও বাড়বে।
এদিকে রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচলকে নীতিমালার আওতায় আনার ঘোষণা এবং ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ—দুই ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

