অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জাহাজশিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের উদ্যোগ

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে রপ্তানি বাড়াতে নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা কাজে লাগাতে এ দুই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে বিশ্বব্যাপী কয়েক হাজার পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের আওতায় আসবে। এ সম্ভাবনাময় বাজার কাজে লাগাতে দেশে পরিবেশসম্মত গ্রিন শিপইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অনুমোদিত গ্রিন ইয়ার্ড রয়েছে এবং আরও কিছু অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ খাত থেকে ভবিষ্যতে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহাজ রপ্তানি সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ এবং নকশা প্রণয়নের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে আধুনিক ডিজাইন ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যাংক গ্যারান্টিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ সমস্যা সমাধানে নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ডগুলোর সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

দুই খাতের উন্নয়নে নৌপরিবহন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় চট্টগ্রাম ড্রাইডকে বড় আকারের জাহাজ নির্মাণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন কর্মকর্তারা। এ সক্ষমতা কাজে লাগাতে আধুনিক ক্রেন, ফ্যাব্রিকেশন শপ, নকশা প্রণয়নের সুবিধা এবং অতিরিক্ত নির্মাণ ডক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, ডকইয়ার্ডের এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. রুহুল মিনহাজ এবং চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নৌবাহিনী ও সিডিডিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী ড্রাইডক পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন