শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আজ বিশ্ব ডাক দিবস, দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে ডাকসেবা সপ্তাহ শুরু; কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চিঠি উৎসব ও প্রদর্শনীর আয়োজন

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস। যোগাযোগব্যবস্থায় ডাকসেবার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এবারের দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তর দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। ঐতিহ্যবাহী ডাকব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে তোলা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি এবারের আয়োজনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে ডাক অধিদপ্তর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

ডাক বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালিত হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার ও শনিবার ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে সাধারণ ডাকসেবা চালু রাখা হয়েছে। তবে এ দুই দিনের বিশেষ সেবার আওতায় সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত নয়।

এবারের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে চিঠি উৎসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি লেখা ও বিনিময়ের আয়োজন, ডাকটিকিট প্রদর্শনী এবং ডাকসেবাবিষয়ক মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডাক অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মকে ডাকব্যবস্থার ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো এবং আধুনিক ডাকসেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় বাড়ানো।

একসময় ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ডাকব্যবস্থা। প্রযুক্তির বিকাশে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের ব্যবহার কমলেও পণ্য পরিবহন, পার্সেল সরবরাহ এবং ই-কমার্সভিত্তিক সেবায় ডাক বিভাগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিকস সেবাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ডাকঘর ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব ডাক দিবসের ইতিহাস ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই দিন সুইজারল্যান্ডের বার্নে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ), যা আন্তর্জাতিক ডাক যোগাযোগে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইউপিইউ কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডাকসেবার গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগে এর অবদান এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে ডাকব্যবস্থার অভিযোজনের বিষয়গুলো তুলে ধরতে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক যোগাযোগ ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য তুলে ধরেছে ডাক অধিদপ্তর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন