অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ঢাকা-লন্ডন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎ • দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময়

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে রিজভীর সঙ্গে এ আলোচনা হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্থান পায়।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সেকেন্ড সেক্রেটারি কেট ওয়ার্ড উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম ও এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের এ বৈঠক এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী গত ২০ আগস্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন এবং ১৫ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

সোমবার রিজভীর সঙ্গে বৈঠকের আগে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক। ওই বৈঠকে তিনি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিনন্দনপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও সেখানে আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্যসুবিধার ধারাবাহিকতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে সারাহ কুক জানান, এলডিসি উত্তরণের পর তিন বছর পর্যন্ত তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় সব পণ্যের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে।

বহুমাত্রিক ঢাকা-লন্ডন সম্পর্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু, অভিবাসন এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃহৎ বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে বিবেচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

রিজভীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে অবশ্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোন কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। দুই পক্ষের প্রকাশিত তথ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মতবিনিময়ের কথাই জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন