অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাত অস্ত্রোপচারের পরও থামেনি জীবনযুদ্ধ, ১৯ সেপ্টেম্বর ফের অস্ত্রোপচার জেমস রানার

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সাতটি জটিল অস্ত্রোপচারের পরও সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন যশোরের সিনিয়র সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট জেমস আব্দুর রহিম রানা। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই সাংবাদিকের ডান পা রক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয়ে পরিবারের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার।

গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন সন্ধ্যায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভেরচি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন জেমস আব্দুর রহিম রানা। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ের হাড় একাধিক স্থানে ভেঙে যায় এবং চামড়া ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাথমিকভাবে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় ওই রাতেই ঢাকার উদ্দেশে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ২৮ মে ঈদের দিন সকালে তাঁকে ঢাকার শ্যামলীতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান—নিটোরে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়।

নিটোরে ভর্তির পর থেকে তাঁর ডান পা রক্ষা ও ভাঙা হাড়ের চিকিৎসায় দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গ্রিন-২ ইউনিটের তৃতীয় তলার ইএফ ওয়ার্ডের ২২ নম্বর শয্যায় অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর তাঁর পায়ে ইতোমধ্যে সাতটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে। প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে দীর্ঘ সময় ড্রেসিং, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও ক্রমেই বাড়ছে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর ডান পায়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভাঙা হাড়গুলোকে সঠিক অবস্থানে আনতে বিশেষ রিং-ফিক্সেটর বসানো হবে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো ও হাঁটার সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে এই অস্ত্রোপচারটি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে পরিবার।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। অপারেশন টেবিলেও তোলা হয় তাঁকে। তবে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

পরিবার জানায়, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল রড, প্লেট, স্ক্রু ও অন্যান্য অর্থোপেডিক ইমপ্লান্টের অর্থ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে অপারেশন থিয়েটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিকল্প হিসেবে বাইরে থেকে যন্ত্র ভাড়া করে আনার প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে ওই অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অপারেশন টেবিলে ওঠার পরও অস্ত্রোপচার ছাড়াই তাঁকে ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ বিষয়ে জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে অপারেশন টেবিলে ওঠার পরও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছি। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবুও মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে নতুন করে অপেক্ষা শুরু করেছি।”

পরিবারের হিসাবে, দুর্ঘটনার পর সাড়ে তিন মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসায় সাতটি অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ড্রেসিং ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ইতোমধ্যে সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পদ ও মূল্যবান সামগ্রী বিক্রি করেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

এখন সামনে আবারও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার। রিং-ফিক্সেটর, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরবর্তী চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা পরিবারের হাতে প্রায় নেই। এ অবস্থায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সহকর্মী সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিক, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস নিয়েই সবার কাছে দোয়া ও মানবিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও হয়তো আমাকে আবার সুস্থ জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।”

তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে বিকাশ (পারসোনাল): 01300832868 এবং নগদ (পারসোনাল): 01400935540 নম্বরে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাঠানো যেতে পারে।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজনের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া সম্ভব না হলেও অনেক মানুষের সামান্য সহযোগিতা সম্মিলিতভাবে চিকিৎসার ব্যয় বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসা সহায়তার আবেদনটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাতটি অস্ত্রোপচারের পরও জেমস আব্দুর রহিম রানা আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের অস্ত্রোপচার তাঁর সেই দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন প্রয়োজন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা ও মানুষের মানবিক সহযোগিতা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন