অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অনুসন্ধান করতে হলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে করুন, আমার বিরুদ্ধে নয়’: আসিফ মাহমুদ

দুদকের অনুসন্ধানকে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বললেন এনসিপি মুখপাত্র • অভিযোগের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে দাবি • দুদক বলছে, অভিযোগ ‘আমলযোগ্য’, অনুসন্ধান শেষে বোঝা যাবে সত্যতা

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তাঁর দাবি, দুদক যে নির্দিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করছে, সেটি ঘটেছে তিনি সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার কয়েক মাস পর। তাই ওই ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানের প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপি সরকারের দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা উচিত, তাঁর বিরুদ্ধে নয়। 

সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে বিভিন্ন সরকারি আদেশ, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, ‘এই নির্দিষ্ট ইস্যুতে অনুসন্ধান করতে হলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে করতে হবে, আমার বিরুদ্ধে নয়।’ তাঁর যুক্তি, তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরদিন তা গৃহীত হয়। অথচ আলোচিত পদোন্নতির আদেশ জারি হয় ২০২৬ সালের মে মাসে। 

প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

দুদক আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।

অভিযোগের একটি অংশে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এবং পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে জনপ্রতি অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। 

এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির আদেশ যখন দেওয়া হয়, তখন তিনি আর সরকারের দায়িত্বে ছিলেন না। তাঁর প্রশ্ন, দায়িত্বে না থাকা অবস্থায় পদোন্নতির ব্যবস্থা করে অর্থ নেওয়া তাঁর পক্ষে কীভাবে সম্ভব?

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১১ মে ১৩৫ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর কয়েক মাস আগেই তিনি সরকারি দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। 

৩৮ নাকি ১১২ কর্মকর্তা

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিলকে কেন্দ্র করে ওঠা আরেকটি অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন আসিফ।

তাঁর দাবি, অভিযোগে ৩৮ কর্মকর্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ২০২১ সালে তাঁদের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর সেই দায়িত্ব বাতিল করা হয়। 

আসিফ মাহমুদের দাবি, মন্ত্রণালয় এখানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন করেছে। বিষয়টি উপদেষ্টা পর্যায়ের সিদ্ধান্তও ছিল না বলে তাঁর বক্তব্য।

‘রাজনৈতিক হয়রানি ও মিডিয়া ট্রায়াল’

দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি মুখপাত্র। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতি অনুসন্ধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও জনসমক্ষে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। 

দুদকের একজন মুখপাত্র এর আগে অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ থাকার কথা বলেছিলেন—এ নিয়েও আপত্তি তোলেন আসিফ। তাঁর অভিযোগ, এমন বক্তব্য প্রচার হওয়ার কারণে তাঁর সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানিয়েছেন। 

যা বলছে দুদক

তবে আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দুদক বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ‘আমলযোগ্য’ মনে হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই কমিটি তা পর্যালোচনা করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। 

আগে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার যে বক্তব্য এসেছিল, সেটিকে দুদক সচিব ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে; অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দুদক অনুসন্ধান চালালে তিনি সহযোগিতা করবেন। তবে তাঁর দাবি, যে সময়ের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেই সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, অনুসন্ধানে সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন