অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসুর সংগ্রহশালা: গোলাম আযমকে জুতাপেটার সেই ছবি সাঁটিয়ে প্রতিবাদ

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ঠাঁই দেওয়ার প্রতিবাদে সেই স্থানটিতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি সাঁটিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।

সোমবার বেলা ৩টার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ছবিটি সাঁটান।

জানতে চাইলে অর্ক বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডাকসু কারো বাপের না। ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না।

“আর গোলাম আযমরা একাত্তরে যা করেছে, তার ফলাফল স্বরূপ একাশিতে মানুষ তাকে জুতাপেটা করেছে। আমরা এদেশের আপামর মানুষের সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।”

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযম ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বায়তুল মোকারম মসজিদে এক জানাজায় গিয়ে জুতাপেটার শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের প্রতীক হয়ে আছে।

গোলাম আযম একাত্তরে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যেসব আধা সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা এদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও প্রকাশ্যে তদবির চালান এই জামায়াত নেতা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে তাকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সাজা ভোগের মধ্যেই পরের বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সংস্কার শেষে রোববার সংগ্রহশালা চালু করে ডাকসু, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি ঠাঁই না পেলেও নতুন করে যুক্ত হয় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।

এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সোমবার দুপুরে সেই তিনটি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।

https://youtube.com/watch?v=A8Nyr7Sx8CA%3Fsi%3DGssa0BQS6f_xKNwc

এর খানিক বাদে সেই স্থানটিতেই গোলাম আযমের জুতাপেটার ছবি সাঁটান অর্ক বড়ুয়া।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “নাইনটিন এইটটি ওয়ানে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমের উপর যে মানুষের ঘৃণা নিক্ষেপ ছিল, জুতা নিক্ষেপ ছিল, সেটাও তো আমার দেশের ইতিহাসের অংশ।

“যখন এখানে জিন্নাহর ছবি লাগানো হয়, তখন আমাদের ডাকসুর যিনি মুক্তিযোদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক বিষয় সম্পাদক, তাকে আমরা দেখেছি—তিনি বলেছেন যে তার ইচ্ছা হয়েছে বলে তিনি লাগিয়েছেন জিন্নাহর ছবি; আমাদেরও ইচ্ছা হয়েছে যে গোলাম আযমকে যে মানুষ জুতাপেটা করছিল, এই ছবিটা আমরা লাগাব।”

তখন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তালি দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন