অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

তিন বছরের কৃতিত্বের স্বীকৃতি একসঙ্গে, সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য পুরস্কৃত দুই শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ শিক্ষার্থী। একই অনুষ্ঠানে সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য অনুষদের দুই শিক্ষককেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিসপ্রধান ড. সুজান ভাইজও বক্তব্য দেন।

‘প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ নয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না; প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তির ভিত্তিতে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে।

তার মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল পাঠদান বা ডিগ্রি প্রদান নয়; নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করাও এর অন্যতম দায়িত্ব। সে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর জোর দেন তিনি।

ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিতুমীর বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করে বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা এবং গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের প্রক্রিয়ায় পরিণত করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

গবেষকদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে এই স্বীকৃতির সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বেড়েছে। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আরও বেশি অধ্যয়ন, গবেষণা ও পরিশ্রম করতে হবে।

তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করছেন। গবেষণা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে গবেষকদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এর আওতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং পাঠ্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শুধু ভালো ফলাফল অর্জন যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিন বছরে ৪৮ শিক্ষার্থী

২০২১ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক এবং শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।

২০২২ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান এবং মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।

২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম এবং মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানরা পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিভিন্ন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দিনের দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন