অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১২ বছর পর সাইদুল হত্যা মামলার রায়, একজনের যাবজ্জীবন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত সাইদুল ইসলাম শাহীন হত্যা মামলায় মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরও চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ছয় আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে হাজতি আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে জেলহাজত থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর পাঁচ আসামি আদালতে হাজিরা দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ আলমের ছেলে। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীর একই ওয়ার্ডের নূর নবীর ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধি-১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে, দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার অপর চার আসামি সিরাজ আলম ওরফে সিরাজুল ইসলাম, কাজুলী বেগম, রোকসানা বেগম ও আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সলিম উল্লাহর বসতবাড়ির সামনে সীমানার করই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে সালিশি বৈঠক বসে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সালিশি বৈঠক চলাকালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর ছেলে সাইদুল ইসলাম শাহীনকে গলায় লোহার রড ঢুকিয়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাপসকর হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা বলেন, আদালত সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে সাজা ভোগের জন্য সাজা পরোয়ানামূলে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত আসামি ও তাদের জামিনদারদের জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন